এটি একটি অনানুষ্ঠানিক তথ্য-সাইট; গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে এর কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। ঋণের শর্ত, সুদের হার ও নোটিশের জন্য অফিসিয়াল সাইট দেখুন।
১৯৭৬জোবরা গ্রামে শুরু
১৯৮৩ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠা
২০০৬নোবেল শান্তি পুরস্কার
প্রায় ৯৪%গ্রাম কভার
৯৭%সদস্য নারী (২০২১)
গ্রামীণ ব্যাংক পরিচিতি
গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশের একটি বিশেষায়িত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান। “গ্রামীণ” মানে গ্রামের; ব্যাংকটি ভূমিহীন ও বিত্তহীন মানুষকে, বিশেষত নারীদের, জামানত ছাড়া ঋণ দেয়। আমানতও নেয় এবং ঋণগ্রহীতাদের পরামর্শ সেবা দেয়। ব্যাংকের মূল দর্শন: আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ঋণ পাওয়া একটি মানবিক অধিকার।
কীভাবে কাজ করে
ব্যাংক ঋণগ্রহীতার দোরগোড়ায় যায়; ঋণ বিতরণ ছাড়া প্রায় সব লেনদেন গ্রামের কেন্দ্র-সভায় হয়।
পাঁচজনের দলের মাধ্যমে ঋণ; দলের পারস্পরিক দায়িত্ব থাকলেও প্রত্যেকে নিজের ঋণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী।
ঋণের পাশাপাশি সদস্যরা নিয়মিত অল্প অল্প সঞ্চয় করেন (জরুরি তহবিল, দলীয় তহবিল ইত্যাদি)।
নিজস্ব মাঠকর্মীরা ঋণের ব্যবহার ও পরিশোধ তদারক করেন।
প্রতিটি কেন্দ্রে সদস্যরা ১৬ সিদ্ধান্ত পাঠ করে মেনে চলার অঙ্গীকার করেন।
নেতৃত্ব (অফিসিয়াল সাইট অনুযায়ী)
প্রতিষ্ঠাতা এমডি: ড. মুহাম্মদ ইউনূস (জন্ম ২৮ জুন ১৯৪০, বাথুয়া, হাটহাজারী; ১৪ ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয়; বাবা স্বর্ণকার)
১৯৭৬: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রামীণ অর্থনীতি কর্মসূচির আওতায় জোবরা গ্রামে পরীক্ষামূলক প্রকল্প। শুরুতে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ দেওয়া হতো এবং ড. ইউনূস ব্যক্তিগতভাবে জামিনদার ছিলেন।
১৯৭৮-৭৯: বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে ব্যবস্থা; বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিলে চট্টগ্রাম ও টাঙ্গাইলে সম্প্রসারণ।
১৯৮২: ইফাদ-এর সহায়তায় ঢাকা, রংপুর ও পটুয়াখালীতে সম্প্রসারণ।
সেপ্টেম্বর ১৯৮৩: সরকার প্রকল্পকে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। ফোর্ড ফাউন্ডেশনের অনুদানে শিকাগোর ShoreBank-এর রন গ্রিজউইনস্কি ও মেরি হটন ব্যাংক গঠনে সহায়তা করেন (ইংরেজি উইকিপিডিয়া)।
অক্টোবর ১৯৮৩: গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর অধীনে ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত (২ অক্টোবর ১৯৮৩ তারিখের সরকারি আদেশ)। শুরুতে ৪০% মালিকানা ঋণগ্রহীতার, ৬০% সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের।
১৯৮৪: গৃহঋণ কর্মসূচি চালু।
২০০৫-০৬: গ্রামীণ মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান তালিকাভুক্ত (১১ জুলাই ২০০৫); নোবেল শান্তি পুরস্কার (২০০৬)।
বিনা প্রিমিয়ামে; ২,০৪,৭১৩ মৃত ঋণগ্রহীতার পরিবারকে মোট ৩৫.৬ কোটি টাকা
২০১৯, বাংলাপিডিয়া
পল্লীফোন
২০ লাখের বেশি ঋণগ্রহীতাকে মোবাইল কেনার ঋণ
২০১৯, বাংলাপিডিয়া
অফিসিয়াল সাইটে মোট ঋণ ডলারে ৪২.২৯ ও ৪২.৪৯ বিলিয়ন, দুই রকম লেখা আছে; তাই টাকার অঙ্ক দেওয়া হলো। পুরনো সূত্রের সংখ্যা বর্তমানের সঙ্গে না-ও মিলতে পারে। উইকিপিডিয়ার একটি জরিপ অনুযায়ী সদস্যদের মধ্যে মধ্যম দারিদ্র্য ৮০% থেকে ৬১%-এ এবং চরম দারিদ্র্য ৭৮% থেকে ৪৮%-এ নেমেছে।
আইন ও পরিচালনা কাঠামো
গ্রামীণ ব্যাংক আইন, ২০১৩ বর্তমানে গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) আইন, ২০২৬ দ্বারা সংশোধিত। মূল পরিবর্তন (bdlaws অনুযায়ী):
বিষয়
সংশোধনীতে যা আছে
পরিশোধিত মূলধন
৩০০ কোটি টাকা; ১০% সরকার বা সরকার-নিয়ন্ত্রিত সংস্থা, ৯০% ঋণগ্রহীতা। ঋণগ্রহীতারা ধাপে ধাপে মূলধন বাড়িয়ে এই অনুপাতে পৌঁছাতে পারবেন।
পর্ষদ
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ১ প্রতিনিধি + ঋণগ্রহীতাদের নির্বাচিত ৯ জন + নির্বাচিতদের মনোনীত ৩ জন (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ শিক্ষক, নারী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, নারী-অধিকার বিষয়ক গবেষক/নেত্রী/আইনজীবী)। এমডি পদাধিকারবলে পরিচালক, ভোটাধিকার নেই।
চেয়ারম্যান
মনোনীত পরিচালকদের মধ্য থেকে বোর্ড নির্বাচন করে।
মেয়াদ
প্রতি মেয়াদে সর্বোচ্চ ৩ বছর; একটানা ২ মেয়াদের বেশি নয়; এরপর ৩ বছর বিরতি।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
বাছাই কমিটি ৩–৫ সদস্যের; বোর্ড চাকরিকাল ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাড়াতে পারে; ৩ মাসে দায়িত্ব না নিলে শূন্যপদ পূরণযোগ্য।
বোর্ড সভার কোরাম
৪ জন
বন্ড ও ডিবেঞ্চার
বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদনে
নিরীক্ষা
ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ অনুযায়ী তালিকাভুক্ত নিরীক্ষক; ব্যাংক “জনস্বার্থ সংস্থা”
“ভূমিহীন বা বিত্তহীন ব্যক্তি” কারা
(ক) যাঁর পরিবার ৫০ শতাংশের কম চাষযোগ্য জমির মালিক, বা সম্পত্তির মূল্য নিজ ইউনিয়নের ১ একর চাষযোগ্য জমির বাজারদরের বেশি নয়; (খ) যাঁর এলাকা আগে ইউনিয়ন ছিল, পরে পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং তারপর নতুন জমি কেনেননি; (গ) যাঁরা অন্তত ৩ বছর পৌর/সিটি এলাকায় বাস করছেন, সেখানে জমি নেই এবং বার্ষিক আয় করমুক্ত সীমার বেশি নয়।
আগের কাঠামো (বাংলাপিডিয়া): সরকার-নিযুক্ত চেয়ারম্যানসহ ১২ সদস্যের পর্ষদ, ৯ জন ঋণগ্রহীতা-নির্বাচিত; মালিকানা ঋণগ্রহীতার ৯৪%, সরকারের ৬%। ২০১৩ সালের আইনে সরকারকে ব্যাংক পরিচালনার বিধি করার ক্ষমতা দেওয়া হয় এবং ড. ইউনূসকে পরে এমডি পদ ছাড়তে হয় (ইংরেজি উইকিপিডিয়া)। আইনের পাঠ: bdlaws.minlaw.gov.bd
সব সঞ্চয় নীতিমালা। ২০০৬ সালের তথ্যে (Grameen Bank at a Glance) ব্যাংক ঋণের পুরো অর্থ নিজস্ব আমানত থেকে জোগান দিত, আর আমানতের ৬৩%-এর বেশি আসত ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে।
সামাজিক কর্মসূচি
শিক্ষাবৃত্তি (ছাত্রীদের অগ্রাধিকার)
জীবন-সংগ্রামী (ভিক্ষুক) সদস্য কর্মসূচি
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও বৃক্ষরোপণ
ঋণ বীমা
গৃহঋণ: ১৯৮৪-তে শুরু; বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী টিনের ঘরের জন্য সর্বোচ্চ ৬০,০০০ টাকা, ৮% সুদ, ৫ বছর (পুরনো তথ্য, যাচাই করুন)
প্রশিক্ষণ
কর্মীদের জন্য প্রবেশ, চাকরিকালীন ও আইটি প্রশিক্ষণ
আন্তর্জাতিক কর্মসূচি: গ্রামীণ বেসিক ট্রেনিং, এক্সপোজার ভিজিট, ইন্টার্নশিপ
গ্রামীণ পরিবারের প্রতিষ্ঠান
গ্রামীণ ট্রাস্ট
গ্রামীণ কমিউনিকেশনস
গ্রামীণ শক্তি
গ্রামীণ টেলিকম
গ্রামীণ শিক্ষা
গ্রামীণ ফিশারিজ
গ্রামীণ সফটওয়্যার
গ্রামীণ সাইবারনেট
গ্রামীণ নিটওয়্যার
গ্রামীণ উদ্যোগ
গ্রামীণফোন
গ্রামীণ ব্যাংক এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সবগুলোর শেয়ারের মালিক নয়। গ্রামীণ ট্রাস্ট ম্যাকআর্থার ফাউন্ডেশনের তহবিলে শুরু হয়ে অন্যান্য দেশে গ্রামীণ মডেল ছড়াতে কাজ করে।
বিশ্বব্যাপী প্রভাব ও সমালোচনা
প্রভাব
দলভিত্তিক ঋণ (solidarity lending) এখন ৪৩টিরও বেশি দেশে ব্যবহৃত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে Grameen America ২০১৭ সালে ১১টি শহরে ১৯টি শাখায় প্রায় ১ লাখ নারী ঋণগ্রহীতাকে সেবা দিত।
আমেরিকা, কানাডা, জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো উন্নত দেশেও গ্রামীণ মডেল ব্যবহৃত হচ্ছে (বাংলাপিডিয়া)।
ষোল সিদ্ধান্ত মানার ফলে প্রায় সব সদস্যের স্কুলগামী সন্তান নিয়মিত পড়াশোনা করে (ইংরেজি উইকিপিডিয়া)।
সমালোচনার দিক
কিছু সমালোচকের মতে অনেক ঋণগ্রহীতা কিস্তি মেটাতে নতুন ঋণ নেন।
অনেক সময় ঋণের টাকা স্বামীর হাতে চলে যায় বলে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন।
একটি গবেষণা-পত্রে ঋণের উচ্চ সুদ ও ডিফল্ট ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা আছে।
সমালোচনাগুলো বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনের মত; প্রতিষ্ঠানের ভাষ্যের জন্য অফিসিয়াল সাইট দেখুন।
দারিদ্র্য বিমোচনের ১৬ সিদ্ধান্ত
১শৃঙ্খলা, ঐক্য, সাহস ও কঠোর পরিশ্রম মেনে চলব।
২পরিবারে সচ্ছলতা আনব।
৩নিরাপদ আবাসন; উন্নত ও টেকসই ঘর তৈরি করব।
৪সারা বছর সবজি চাষ করব, খাব ও বিক্রি করব।
৫রোপণ মৌসুমে যত বেশি সম্ভব চারা লাগাব।
৬পরিবার ছোট রাখব; শিশুদের সব টিকা দেব।
৭ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া নিশ্চিত করব।
৮পরিবেশ পরিষ্কার রাখব; স্বাস্থ্যের যত্ন নেব।
৯স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করব; সাবানে হাত ধোব।